সিলেটে বিস্ফোরণে আহতরাও ‘সন্দেহে’র তালিকায়!

সিলেটে জঙ্গি আস্তানার কাছে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের কেউ কেউ রয়েছেন পুলিশের ‘সন্দেহের’ খাতায়।  বোমা হামলার ঘটনার সাথে এদের মধ্যে কেউ জড়িত কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের সামান্য দূরে বোমা বিস্ফোরণে ছয় জন নিহত হন।  ঘটনাস্থলেই মারা যান চার জন।  বাকিরা ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।  এ ঘটনায় আহত হয় আরও অন্তত ৪৪ জন।

নিহতরা হলেন নগরীর জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালতে পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কায়সার, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম অপু ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম ছাড়াও নেত্রকোণার শহীদুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জের ছাতকের দয়ারবাজার এলাকার কাদিম শাহ রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, শহীদুল ইসলাম ও কাদিম শাহ সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায় প্রাইম লাইটিং এন্ড ডেকোরেটর্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন।
হামলায় নিহত ছয় জনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতাল থেকে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে চার জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  তবে বাকি দু’জনের ব্যাপারে তদন্ত করছে পুলিশ।  এ দু’জন বোমা হামলার সাথে সম্পৃক্ত কিনা, সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, হামলায় আহত কয়েকজনকেও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বোমা বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন বলেন, ‘তদন্ত করে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।  নিহতদের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  সিলেটের বাইরের যে দু’জন নিহত হয়েছেন, তাদের ব্যাপারেও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।  অনুসন্ধান শেষে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হবে।  ’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আহতদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।  পুরো বিষয়টি তদন্তের মধ্যে আছে।  আমরা হামলাকারীদের সনাক্ত করার ব্যাপারে আশাবাদী।  ’

You may also like...